প্রথম ২ মাস মাসে ৳২০০ + ১০০% মানি-ব্যাক গ্যারান্টি — আজই আপনার স্টোর শুরু করুন!
সব লেখা

বাংলাদেশে অনলাইন গ্রোসারি ব্যবসা কীভাবে শুরু করবেন

কী বিক্রি হয়, ওজন অনুযায়ী দাম, মার্জিন কোথায় যায়, আর পচনশীল পণ্যের ডেলিভারি — অনলাইন গ্রোসারি স্টোর শুরুর বাস্তব গাইড।

Eazifiy টিমপ্রকাশ ৬ মিনিট পড়া

গ্রোসারি এমন একটা ক্যাটাগরি যেটা প্রতিটা পরিবার প্রতি সপ্তাহে কেনে — ঠিক এই কারণেই এটা লোভনীয় দেখায়, আর ঠিক এই কারণেই অসাবধান শুরু এখানে শাস্তি দেয়। মার্জিন ফ্যাশনের চেয়ে পাতলা, ভুল হলে জিনিস বাক্সে পড়ে থাকে না — নষ্ট হয়, আর যে কাস্টমার সবজির জন্য দুই দিন অপেক্ষা করেছে সে আর ফেরে না। এতে ব্যবসাটা খারাপ হয়ে যায় না — বরং এমন ব্যবসা হয় যেখানে পরিকল্পনার দাম আছে।

এই গাইডে আছে বাংলাদেশে অনলাইন গ্রোসারি বা অর্গানিক ফুড স্টোর শুরু করার ধাপগুলো: কী বিক্রি করবেন, যে জিনিস তিন রকম ওজনে যায় তার দাম কীভাবে ঠিক করবেন, ডেলিভারিতে আসলে কত খরচ, আর প্রথম অর্ডার নেওয়ার আগে কী কী চালু থাকা দরকার। চার্জের প্রসঙ্গে সংখ্যা না বলে কোথায় দেখবেন তা বলা আছে — রেট ব্লগ পোস্টের চেয়ে বেশি ঘন ঘন বদলায়।

অনলাইনে আসলে কী বিক্রি হয়

দোকানের সব জিনিস অনলাইনে চলে না। তিনটা গ্রুপ চলে:

  1. যেসব স্টেপল মানুষ বারবার কেনে। চাল, তেল, ডাল, চিনি, মসলা, আটা। উত্তেজনা কম, রিপিট বেশি। ব্যবসার ভিত্তি এটাই: যে কাস্টমার প্রতি মাসে আপনার কাছ থেকে চাল কেনে, সে দশজন এক-বারের ক্রেতার চেয়ে দামি।
  2. অর্গানিক ও স্পেশালিটি আইটেম। ঘি, মধু, কোল্ড-প্রেসড তেল, কেমিক্যালমুক্ত সবজি, ইমপোর্টেড পণ্য। মার্জিন বেশি, ক্রেতারা গল্পটা নিয়ে ভাবে, আর দামে প্রতিযোগিতা কম কারণ পণ্যটা সব জায়গায় একরকম না।
  3. ফ্রোজেন ও প্যাকেটজাত। ফ্রোজেন মাছ-মাংস, রেডি-টু-কুক, স্ন্যাকস। মার্জিন ভালো, কিন্তু কোল্ড চেইন লাগে — সেটা না থাকলে এখান থেকে শুরু করবেন না।

সাধারণত প্রথমে যেটা ব্যর্থ হয়: কম দামে কাঁচা সবজি আর ফল। দ্রুত নষ্ট হয়, মার্জিন পাতলা, আর ডেলিভারি খরচ যা থাকে তাও খেয়ে ফেলে। অনেক স্টোর এগুলো পরে স্টেপলের পাশে সুবিধা হিসেবে যোগ করে, শুরুতে এটা দিয়ে নামে না।

সোর্সিং আর যে মার্জিনটা আসলে থাকে

কেনা দামই আপনার খরচ না। বিক্রির দাম ঠিক করার আগে হিসাব করুন:

  • নষ্ট হওয়া। যা পচে, ভাঙে বা মেয়াদ শেষ হয়। শুকনো স্টেপলে এটা কম; কাঁচা জিনিসে এটাই লাভ আর লোকসানের পার্থক্য।
  • প্যাকেজিং। গ্রোসারির প্যাকেজিং ফ্যাশনের চেয়ে ভারী — ভেতরের ব্যাগ, বাইরের কার্টন, টেপ, আর তরলের জন্য লিক-প্রুফ স্তর।
  • ডেলিভারি। আপনার হোক বা কুরিয়ারের, কেউ না কেউ দাম দিচ্ছে। গড় অর্ডার ছোট হলে প্রতি অর্ডারে ডেলিভারিই সবচেয়ে বড় খরচ হতে পারে।
  • রিটার্ন ও প্রত্যাখ্যান। ফেরত আসা COD পার্সেলে রিটার্ন চার্জ লাগে, আর পচনশীল হলে পণ্যটাও যায়।

শুরুতেই একটা মিনিমাম অর্ডার ভ্যালু ঠিক করুন। নতুন গ্রোসারি স্টোরের হাতে এটাই সবচেয়ে কার্যকর একটা লিভার: ৳২০০-র অলাভজনক অর্ডারকে ৳৮০০-র লাভজনক অর্ডারে বদলে দেয়, আর এটা একটা সেটিং — কোনো কৌশল না।

যে জিনিস তিন ওজনে যায়, তার দাম

গ্রোসারির ক্যাটালগ "এক প্রোডাক্ট, এক দাম" না। একই চাল ১ কেজি, ৫ কেজি, ২৫ কেজি; একই তেল ৫০০ মিলি, ১ লিটার, ৫ লিটার। প্রতিটার আলাদা দাম আর আলাদা স্টক লাগে, কারণ শেলফে ওগুলো সত্যিই আলাদা জিনিস।

মডেল করার উপায় হলো একটা প্রোডাক্ট, তার নিজের অপশন গ্রুপসহ। গ্রুপের নাম আপনি দেবেন — সাইজ, ওজন, প্যাক — আর প্রতিটা অপশনের নিজের দাম ও স্টক সংখ্যা বসাবেন। Eazifiy-তে ক্যাটালগ ঠিক এভাবেই কাজ করে: প্রোডাক্ট তার অপশনগুলো বহন করে, কাস্টমার একটা বেছে নেয়, আর যে অপশন নিল সেটারই স্টক কমে। গ্রোসারি স্টোর পেজে এভাবে সাজানো একটা লাইভ স্টোর দেখতে পারেন।

একইসাথে দুটো জিনিস ঠিক করে নিন:

  • কম্বো ও বান্ডল প্যাক। চাল-তেলের বান্ডল বা চার পিসের প্যাক ভালো বিক্রি হয় আর অর্ডারের মান বাড়ায়। বান্ডল বিক্রি করলে নিশ্চিত করুন ভেতরের পিসগুলোও গোনা হচ্ছে, নাহলে আলাদাভাবে ওগুলো ওভারসেল হয়ে যাবে।
  • প্রতি ইউনিটের দাম স্পষ্ট রাখা। প্যাকের দামের পাশে প্রতি কেজি বা প্রতি লিটারের দাম দেখালে আস্থা বাড়ে — এই ক্যাটাগরিতে কাস্টমার খুঁটিয়ে তুলনা করে।

ডেলিভারির সমস্যা, সোজাসুজি

বাংলাদেশে গ্রোসারি ডেলিভারি আসলে দুটো আলাদা কাজ:

শহরের ভেতরে, একই দিনে। গ্রোসারি কাস্টমার আসলে এটাই চায়, আর কুরিয়ার সাধারণত এর জন্য বানানো না। যারা এটা ভালো করে, তারা বেশিরভাগই একটা নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নিজের বা ভাড়া করা রাইডার রাখে, সাথে একটা কাট-অফ টাইম — দুপুরের আগের অর্ডার আজ, পরেরটা কাল। যত এলাকা একজন রাইডার কভার করতে পারে, প্রতিশ্রুতি তার মধ্যেই রাখুন।

শহরের বাইরে। এখানে কুরিয়ারই যুক্তিসঙ্গত উত্তর, আর এটা ঠিক করে দেয় আপনি কী পাঠাতে পারবেন: শুকনো, প্যাকেটজাত, অপচনশীল পণ্য। এই ক্যাটাগরির জন্য যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা দিয়েই কুরিয়ার তুলনা করুন — আপনার জেলাগুলোতে কভারেজ, ফেরত পার্সেলে কত খরচ, আর COD-র টাকা আপনার কাছে আসতে কত দিন। বিস্তারিত আছে পাঠাও বনাম স্টেডফাস্ট বনাম রেডএক্স পোস্টে।

প্রচলিত ও কার্যকর সেটআপ হলো দুটোই চালানো: শহরের জন্য নিজের রাইডার, বাকি জায়গার জন্য কুরিয়ার, আর ক্যাটালগে চিহ্নিত থাকবে কোন পণ্য দূরে যেতে পারে।

প্যাকেজিং যা যাত্রাটা সামলাতে পারে

গ্রোসারির প্যাকেজিং সাজসজ্জা না, ক্ষতি ঠেকানোর ব্যবস্থা:

  • তরল যা কিছু, বাক্সে ঢোকার আগে সিল করা ভেতরের ব্যাগে যাবে। একটা তেলের বোতল লিক করলে পুরো অর্ডার নষ্ট।
  • ভারী জিনিস নিচে, ভঙ্গুর ওপরে, ফাঁকা জায়গা ভরাট যাতে কিছু নড়াচড়া না করে।
  • কাঁচা জিনিস আর রেডি-টু-ইট আলাদা রাখুন।
  • অর্ডার স্লিপ ভেতরে, ঠিকানা বাইরে — আবহাওয়ায় লেবেল নষ্ট হয়।

পেমেন্ট: ক্যাশ অন ডেলিভারি, আর সেটা নিরাপদ করা

প্রথম দিকের বেশিরভাগ অর্ডার COD-তেই আসবে, আর বেশিরভাগ ভুয়া অর্ডারও। তিনটা জিনিস ক্ষতি কমায়:

  1. অ্যাডভান্স নিন। COD অর্ডার কনফার্ম করতে বিকাশে ছোট একটা পেমেন্ট চাইলে যারা কখনোই পার্সেল নিত না তারা ছেঁকে বেরিয়ে যায়। নেওয়ার উপায়গুলো আছে ওয়েবসাইটের জন্য বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে পোস্টে।
  2. প্যাক করার আগে কনফার্ম করুন। বিশেষ করে পচনশীল পণ্যে — পার্সেল বানানোর আগে একটা কল বা মেসেজে এক মিনিট যায়, পণ্যটা বাঁচে।
  3. ডেলিভারি হিস্ট্রি দেখুন। কুরিয়ার দেখায় একটা ফোন নম্বর কয়টা পার্সেল নিয়েছে আর কয়টা ফেরত দিয়েছে। এটা ও বাকিগুলো আছে ভুয়া অর্ডার আর COD রিটার্ন কমানোর উপায়-এ।

স্টক কন্ট্রোলই পুরো ব্যবসা

গ্রোসারি মার্কেটিংয়ের চেয়ে স্টকে বেশি ব্যর্থ হয়। দুটো অভ্যাস জরুরি:

  • শেষ হওয়ার আগেই জানুন কোনটা কমে গেছে। সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হওয়া জিনিসগুলোর লো-স্টক অ্যালার্ট যেকোনো রিপোর্টের চেয়ে দামি। যে স্টেপল বারবার শেষ হয়ে যায়, সেটা কাস্টমারকে অন্য দোকানে যেতে শেখায়।
  • শেষ হয়ে গেলে কী হবে ঠিক করুন। প্রোডাক্ট লুকিয়ে ফেললে বিক্রিটা নিঃশব্দে হারায়। নির্দিষ্ট ডেলিভারি তারিখ দিয়ে অর্ডার নিতে দিলে বিক্রিটা থাকে — যদি তারিখটা আপনি সত্যিই রাখেন।

এই দুটোই উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মে প্রজেক্ট না, স্রেফ সেটিং — আর সেটাই মূল কথা: স্টক-অ্যাডমিনে যে সময় বাঁচে, সেটা সোর্সিংয়ে দিতে পারেন।

লঞ্চ চেকলিস্ট

প্রথম অর্ডার লাইভ হওয়ার আগে:

  • ২০–৫০টা প্রোডাক্ট, ওজন বা প্যাক অপশনসহ দাম বসানো
  • একটা মিনিমাম অর্ডার ভ্যালু
  • ডেলিভারি এলাকা, চার্জ আর দৈনিক কাট-অফ টাইম সাইটে লেখা
  • বিকাশ কানেক্ট করা আর ক্যাশ অন ডেলিভারি চালু
  • শহরের বাইরের অর্ডারের জন্য কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট খোলা
  • রিটার্ন ও রিফান্ড পলিসি, যেখানে নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের কথা স্পষ্ট
  • দ্রুত বিক্রি হওয়া পণ্যে লো-স্টক অ্যালার্ট
  • ট্রেড লাইসেন্স ও ক্যাটাগরি-ভিত্তিক কাগজপত্র — দেখুন অনলাইন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শুরু করতে কত স্টক লাগবে? দ্রুত বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর দুই সপ্তাহ চলার মতো, এর বেশি না। গ্রোসারি অন্য যেকোনো ক্যাটাগরির চেয়ে দ্রুত ইনভেন্টরিতে টাকা আটকে ফেলে; সরু করে শুরু করুন, রিঅর্ডারই বলে দেবে কোনটা গভীর করতে হবে।

প্রথম দিন থেকেই কাঁচা সবজি বিক্রি করব? সাধারণত না। শুকনো স্টেপল আর প্যাকেটজাত পণ্য দিয়ে শুরু করুন — নষ্ট হওয়া কম, কুরিয়ারেও যায়। ডেলিভারির রুটিন আর রিঅর্ডার করা কাস্টমার তৈরি হলে কাঁচা জিনিস যোগ করুন।

ফ্রোজেন পণ্যের জন্য কোল্ড চেইন লাগবে? ঠিকভাবে বিক্রি করতে চাইলে হ্যাঁ — অন্তত ইনসুলেটেড বক্স আর ছোট, নিয়ন্ত্রিত ডেলিভারি উইন্ডো। এটা ছাড়া ফ্রোজেন পণ্য রিফান্ড রিকোয়েস্ট জমানোর দ্রুততম উপায়।

অনলাইনে গ্রোসারি স্টোর চালু করতে খরচ কত? Eazifiy-তে যেকোনো প্ল্যানে প্রথম ২ মাস মাসে ৳২০০, তারপর প্ল্যানের নিয়মিত দাম। এতে স্টোরফ্রন্ট, অ্যাডমিন প্যানেল, বিকাশ ও ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট আর কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন আছে; স্টক, প্যাকেজিং আর ডেলিভারি আপনার নিজের খরচ।

সেটআপ করতে প্রস্তুত? দেখুন গ্রোসারি ও অর্গানিক ফুড স্টোর পেজ বা পুরো ফিচার তালিকা।

নিজের স্টোর খুলতে প্রস্তুত?

স্টোরফ্রন্ট, অ্যাডমিন প্যানেল, বিকাশ ও ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট, Pathao ও Steadfast কুরিয়ার — যেকোনো প্ল্যানে প্রথম ২ মাস মাসে ৳২০০।

মাসে ৳২০০ দিয়ে শুরু করুন

কোডিং জানার দরকার নেই · যেকোনো সময় বাতিল

আরও গাইড